চীনা পণ্যে শুল্ক ২৪৫ শতাংশে উন্নীত: মার্কিন-চীন বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র
ওয়াশিংটন, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫
চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরও এক দফা বাড়িয়ে ২৪৫ শতাংশে উন্নীত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিংয়ের পাল্টা পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট ট্রেড পলিসি’র একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
চলতি মাসের শুরুর দিকে বিশ্বের বহু দেশের পাশাপাশি চীনা পণ্যের ওপর ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন পাল্টা শুল্কারোপ করলে, ট্রাম্প আরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণা দেন। এতে মোট শুল্কের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৪ শতাংশ। তার সঙ্গে পূর্বের ২০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হলে সর্বমোট শুল্ক দাঁড়ায় ১০৪ শতাংশে।
তবে এখানেই থামেননি ট্রাম্প প্রশাসন। বাণিজ্য চাপ আরও বাড়াতে পরবর্তীতে শুল্ক আরও বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশে উন্নীত করা হয়। গত ১০ এপ্রিল সেই শুল্কের পরিমাণ আবারও বৃদ্ধি পেয়ে হয় ১৪৫ শতাংশ।
এর ঠিক একদিন পর, ১১ এপ্রিল শুক্রবার, চীনও যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি করে পাল্টা জবাব দেয়। নতুন ঘোষণায় জানানো হয়, মার্কিন পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও তীব্র রূপ নেয়।
১৫ এপ্রিল মঙ্গলবার হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, চীনের ‘প্রতিশোধমূলক ও অনায্য’ বাণিজ্য নীতির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরও ১০০ শতাংশ বাড়াচ্ছে। ফলে মোট শুল্কের পরিমাণ এখন ২৪৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, “চীন যদি আমেরিকান শ্রমিক, কৃষক ও নির্মাতাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক নীতি নেয়, তবে আমরা চুপ করে বসে থাকব না। এই পদক্ষেপ আমাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার একটি অংশ।”
বিশ্বব্যাপী বাজার এই উত্তেজনার প্রভাব প্রত্যক্ষ করছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাড়তে থাকা শুল্কের চাপের ফলে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও কৃষি খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বাণিজ্যযুদ্ধ শুধু যুক্তরাষ্ট্র বা চীন নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন বাধাগ্রস্ত হতে পারে, মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অংশ হিসেবে এই ধরনের কঠোর শুল্কনীতি আরোপ করা হলেও, অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করছেন এটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোনো পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা না এলেও, বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |